'জীবনে বহুত টিকটক করেছি, আপনাকে বিয়ে করে যদি জান্নাতে যেতে পারি'
'জীবনে বহুত টিকটক করেছি, আপনাকে বিয়ে করে যদি জান্নাতে যেতে পারি'
ইসলামি বক্তা হাবিবুর রহমান মিসবাহের দশম স্ত্রী হতে চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাথিনা তাবাসসুম মীম। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি কি ১০ নম্বর বউ হতে পারি? জীবনে বহুত টিকটক করেছি, এখন আপনাকে বিয়ে করে যদি জান্নাতে যেতে পারি। জান্নাতে যাওয়ার সুযোগটা করে দেন প্লিজ।’এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে যৌতুকের মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত। মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় হাবিবুর রহমান মেসবাহর ৯ বিয়ের তথ্য উল্লেখ করেন স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত
মামলার নালিশি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে শরিয়াহ মোতাবেক হাবিবুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিসবাহ’ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।বাদীর অভিযোগ, বিবাহের সময় হাবিবুর রহমান মিসবাহ তার পূর্বের চারটি বিবাহের বিষয় গোপন রাখেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিসবাহ মোট নয়টি বিবাহ করেছেন এবং এসব বিবাহের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বাদী যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এবিএম ইবরাহিম খলিল আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ বিরুদ্ধে আমার মক্কেল হুমায়রা জান্নাত যৌতুকের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। বাদী হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে হাবিবুর রহমান মিসবাহ পরিচয় হয় তার ওয়াজ মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের মাধ্যমে। পরে ফেসবুকে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের পরিচয় বাড়ে। একপর্যায়ে হুমায়রা জান্নাতকে যাত্রাবাড়ীতে নিজের বাসায় নিয়ে যান মিসবাহ। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আগে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছেআইনজীবীর দাবি, মামলার আবেদনে হাবিবুর রহমান মিসবাহর একাধিক বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত তার পঞ্চম স্ত্রী। এরপরও তিনি আরও চারটি বিয়ে করেছেন। এ হিসেবে তার মোট নয়টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাবিবুর রহমান মিসবাহ নিজেকে ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় জ্ঞানদাতা হিসেবে পরিচিত করেছেন। তিনি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য শুনে অনেক সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা তার প্রতি আকৃষ্ট হন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রচারের পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন।আইনজীবীর দাবি, হাবিবুর রহমান মিসবাহ একাধিক বিয়ের পেছনে আর্থিক বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দিয়ে তিনি বড় অঙ্কের সম্মানী পান। বিভিন্ন জায়গায় তার নিজস্ব যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারের একটি কারণ হিসেবে তিনি একের পর এক বিয়ে এবং নারীর প্রতি দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট ইবরাহিম খলিল বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি সমন জারি করেছেন। পরবর্তী তারিখে আসামি আদালতে হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, হাবিবুর রহমান মিসবাহ কাবিন না করেই বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সন্তানও রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment